1. [email protected] : dailybibartan :
  2. [email protected] : Boni Amin : Boni Amin
পাটগ্রামে যুবককে হত্যার পর লাশে আগুন দেয়ার অভিযোগ!
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি:
সারাদেশে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে সরাসরি যোগাযোগ করুন : 01714218173 email: [email protected]

পাটগ্রামে যুবককে হত্যার পর লাশে আগুন দেয়ার অভিযোগ!

জেলা প্রতিনিধি | দৈনিক বিবর্তন
  • নিউজ প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৪৩ বার
যুবককে হত্যার পর লাশে আগুন দেয়ার অভিযোগ
নিউজটি শেয়ার করুন..
  • 13
    Shares

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতের ওই ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, সহিদুন্নবী জুয়েল ও তার সঙ্গী সুলতান জোবায়ের আব্বাস (৫১) বুড়িমারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাজার মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করতে যান। এই দুজনের বাড়িই রংপুরে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, সহিদুন্নবী মসজিদের সেলফ থেকে ধর্মীয় বই নিয়ে পড়তে যান। এ সময় তাক থেকে একটি কোরআন শরিফ নিচে পড়ে যায়। এতে কিছু মুসল্লির ধারণা হয়, ইচ্ছা করেই কোরআন শরিফ ফেলে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধর্ম অবমাননার গুজব আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, গুজব ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ মনে করেছে তারা কোরআন অবমাননা করেছে। কিন্তু এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। উত্তেজিত জনতা এক পর্যায়ে মারমুখী হয়ে ওঠে। ওখানে ইউএনও, পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু তারা তাকে (সহিদুন্নবী) রক্ষা করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও কয়েকজন মুসল্লি সহিদুন্নবী ও জোবায়েরকে উদ্ধার করে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে নিয়ে যান। এ সময় উত্তেজিত মুসল্লিরা বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করেন। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে মুসল্লিদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল এসে ইউনিয়ন পরিষদের দরজা ভেঙে সহিদুন্নবীকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর মৃতদেহ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের বাইরে এনে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়।

এদিকে সহিদুন্নবীর সঙ্গে থাকা জোবায়েরকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনটি মামলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।

সহিদুন্নবী ও জোবায়ের কেন রংপুর থেকে লালমনিহাটে গিয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা কারণ সম্পর্কে এখনো জানতে পারিনি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে যেখান থেকেই আসুক তারা তো যে কোনো মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেই পারে।

রংপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাজিব বসুনীয়া জানান, সহিদুন্নবী জুয়েলের বাড়ি রংপুর শহরে। তিনি ক‍্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের লাইব্রেরিয়ানের কাজ করতেন। এক বছর আগে তার চাকরি চলে যায়। তখন থেকে কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বুধবার সকালে তার বন্ধু সুমনের সঙ্গে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি।

আহত সুলতান জোবায়ের আব্বাস জানান, তিনি তার ব্যক্তিগত কাজে বুড়িমারী এসে মারপিটের শিকার হয়েছেন।

পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, আহত দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত শরীফকে রংপুরে পাঠানো হয়।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় অপর এক ব্যক্তি আহত হয়েছে। লাশে আগুন দেয়ার পর কিছুটা পুড়ে যায়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।


নিউজটি শেয়ার করুন..
  • 13
    Shares
এ জাতীয় আরো সংবাদ..

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন