logo
ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ আগস্ট ২০২১

বক ও পানকৌড়ির মিলন মেলা, তালতলীর লাউপাড়া গ্রামে

মাহমুদুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ১৭, ২০২১ ৫:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাছে পাতা নাকি বকের সংখ্যা বেশি- এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ, সাদা বকে ঢেকে গেছে সবুজ পাতা। ঠিক যেন সাদার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সবুজ। পাশের গাছে রয়েছে কয়েক জাতের সাদা বক,গুজিবক, পানকৌড়ি, শালিক।

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার লাউপাড়া গ্রামে বাঁশবাগান এবং তেঁতুল গাছে নিরাপদ আশ্রয়ে পাখিরা। ভোর বিহানে পাখির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙ্গার প্রচলিত পরিবেশ সব গ্রামে এখন আর নেই। বন-বাদাড় উজাড়, ঝোপঝাড় কমে যাওয়াতে আমাদের জীব বৈচিত্র পাক-পাখালি প্রায়ই বিপন্ন। উড়ন্ত পাখির দুরন্ত খেয়ালে এখনো কোথাও কোথাও পাখি বাসা বাঁধে, ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়।

বাড়ির মালিক বক ও তাদের ছানাগুলোকে মাঝে মাঝে খেতে দেন। ছানাগুলো বাসা থেকে পড়ে গেলে তুলে দেন বাসায়। পাখিগুলো মালিকের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়। ছানাগুলো বড় হয়ে উঠলে পাখিগুলো চলে যায়।

এক বাড়ি থেকে দুই বাড়ি, তিন বাড়ি বাসা বাঁধে। এরপর থেকে সংখ্যাটা শুধু বেড়েই চলেছে। সাদা আর কালো রঙের পাখিতে ঢেকে আছে গাছের ডালপালা। পাখির বিষ্ঠায় সাদা হয়ে আছে বাড়ির চাল ও উঠান। সকাল হলে খাবারের সন্ধানে ছুটছে ওরা। সন্ধ্যা হলে ফিরে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে। পাখির ঝাঁক দেখতে দূূর-দূরান্ত থেকে আসছেন বহু পাখিপ্রেমী মানুষ।

গ্রামবাসীর ভালোবাসায় পাখির এই অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে তালতলী উপজেলার ৭নং সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামে। সার্বক্ষণিক পাখিগুলোর দিকে নজর রাখছেন গ্রামের ফোরকান ফরাজী ও আলকাছ ফরাজীসহ আশপাশের লোকজন। তাদের বাড়ি থেকেই প্রথম শুরু হয়েছিল পাখিগুলোর আতিথেয়তা।

কথা হয় ফোরকান ফরাজী সঙ্গে। তিনি জানান, গ্রামের আশপাশে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি বিল ও খাল। আষাঢ় মাসের শুরুতে নদী, খাল ও বিলে বর্ষার পানি আসতে শুরু করলেই বক আর পানকৌড়িগুলো আসতে শুরু করে। গাছে গাছে বাসা বাঁধে, ডিম দেয়, বাচ্চা ফোটায়। নদী ও বিল থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এরপর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উঠলে অন্যত্র চলে যায়। ছয় মাসের মতো পাখিগুলো এখানে থাকে বলে জানালেন তিনি।

গত ১৬ আগস্ট পড়ন্ত বিকেলে ফোরকান ফরাজি বাড়ি বাঁশ বনের কাছে গেলে দেখা মিলে ঝাকে ঝাকে সাদা সাদা বক পাখির। বাঁশঝাড়ের সবুজ পাতার নিচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে পাখিরা। মাঝে মাঝে কালো রংয়ের পানকৌড়িরাও বাঁশঝাড়ের চূড়ায় বসছে। আষাঢ়ের মেঘ ভরা আকাশ থেকে নামছে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বৃষ্টির ফাঁকে রোদের ঝিলিকে সবুজ বাঁশঝাড় যেন ছোপ ছোপ সাদা রংয়ে লেপ্টে গেছে। বেলা যত পড়ছে পাখিরা কাছের মাঠ থেকে উড়া-উড়ি করে নীড়ে ফিরছে। আর বাসায় থাকা বাচ্চাদের কিচিমিচির বাড়ছে। কোনটি আবার ডানা ঝাপটিয়ে বাচ্চাদের মুখে খাবার দিচ্ছে।

ফোরকান ফরাজি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে পাখিরা আশ্রয় নিয়েছে। যদিও গাছ-পালা তরুলতার ক্ষতি হয় তবুও আমরা পাখি তাড়াই না। আমাদের বাড়িতে সারাবছরই পাখি থাকে। তবে বৈশাখ মাস থেকে ঝাকে ঝাকে পাখিরা আসে। এ সময় পাখিরা বাসা বুনে বাচ্চা ফোটায়। বাচ্চারা উড়াল দেয়া শিখলে আবার আস্তে আস্তে চলে যায়। বক ছাড়াও আছে পানকৌড়ি শালিক ঘুঘুসহ বিভিন্ন জাতের দেশীয় পাখি।

কথা হলো স্থানীয় সাবেক, ইউপি সদস্য জলিল ফকিরের সঙ্গে। তিনিও পাখিপ্রেমী। তাই নানা সমস্যা সত্ত্বেও পাখিগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ গ্রামের মানুষের মতো সবাইকে পাখির প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক বিবর্তন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।