logo
ঢাকাসোমবার , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মানবিক সংকট এড়াতে ৬০ কোটি ডলার চায় জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২১ ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আফগানিস্তানে মানবিক সংকট এড়াতে ৬০ কোটি মার্কিন ডলার চায় জাতিসংঘ। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এ উপলক্ষ্যে জেনেভায় সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) একটি কনফারেন্সের আয়োজন করেছে সংস্থাটি। সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জাতিসংঘ বলছে, তালেবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে রয়টার্স বলছে, গত মাসে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার আগে থেকেই দেশটির অর্ধেক জনসংখ্যা – ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ – বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এবং সহায়তা প্রদানকারী গ্রুপগুলো বলছে, তালেবান ক্ষমতায় আসার পর খাবার ও টাকার অভাবে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুতগতিতে তালেবানের ক্ষমতা দখল এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থিত সরকারের পতনের পর আফগানিস্তানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা আকস্মিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায়। আর এতেই দেশটিতে মানবিক সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস বলছেন, কাজ চালাতে তার সংস্থা অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করছে। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজ কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারছে না জাতিসংঘ।’

প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানে মানবিক সংকট এড়াতে প্রয়োজনীয় ফান্ড গঠনের জন্য স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে জেনেভা কনফারেন্স শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই কনফারেন্সে আন্তেনিও গুতেরেস-সহ জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা, আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রধান পিটার মাউরার এবং জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস-সহ বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

আফগান সংকট এড়াতে জাতিসংঘ মোট ৬০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চায়। এর এক-তৃতীয়াংশ জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর মাধ্যমে খরচ করা হবে। গত আগস্ট ও চলতি সেপ্টেম্বর মাসে করা এক সমীক্ষায় সংস্থাটি দেখতে পায় যে, ৯৩ শতাংশ আফগান নাগরিক প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছেন না। যাদের অধিকাংশই টাকা হাতে না থাকায় খাবার কিনতে পারছেন না।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-আঞ্চলিক পরিচালক অ্যানথিয়া ওয়েব বলছেন, বহু পরিবারই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে এবং বেঁচে থাকার জন্য নেতিবাচক কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ওয়েব বলছেন, এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে এক বেলা অভুক্ত থাকা, বড়দের খাবার না দিয়ে শিশুদের খাবার দেওয়া কিংবা খাদ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনা। সুতরাং এখন চারটি আফগান পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার সবগুলো না হলেও অন্তত একটি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলছেন, ‘খাবারের মজুত ফুরিয়ে যাওয়া রুখতে আমরা আক্ষরিক অর্থেই ভিক্ষা এবং ধার করছি।’

দৈনিক বিবর্তন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।