শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি অমিত হাসান রক্তিম বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হল খুলে দেবার আহবান জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি। তাই বাধ্য হয়ে কয়েক জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে রাত কাটাতে হচ্ছে।
ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে থাকার সময় হামলার শিকার হওয়ার পর এবার হল খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসেই রাত্রিযাপন কর্মসূচিও পালন করছেন তারা।
রোববার রাত ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ২০ শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অনিরাপদ বোধ করায় এভাবে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
এছাড়াও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন মঙ্গলবারের হামলার বিচার চেয়ে যে তিন দফা রয়েছে তারও অংশ হিসেবে এই রাত্রিযাপন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন মাহমুদ হাসান তমাল বলেন, ‘হল খুলে না দেয়ায় বিপাকে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা কার্যক্রম চললেও হল খোলা হচ্ছে না কেন? আমরা থাকবো কোথায়?’
শিক্ষার্থী সিয়াম জামান বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবি আদায় হয়নি। আমাদের মেসে হামলাকারী অপরাধী এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখন আমাদের ভার্সিটি ছাড়া অন্য কোথাও নিরাপত্তা নেই।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি অমিত হাসান রক্তিম বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হল খুলে দেবার আহবান জানালেও তারা কর্ণপাত করেনি। তাই বাধ্য হয়ে কয়েক জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে রাত কাটাতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানার জন্য প্রক্টর সুব্রত কুমার দাসকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালে বিআরটিসি কাউন্টারের এক কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত ও এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর প্রতিবাদে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
একই দিন রাতে নগরীর রূপতলী হাউজিংয়ে শিক্ষার্থীদের মেসে গিয়ে ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এতে আহত হন প্রায় ১১ জন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের করা হামলায় নেতৃত্ব দেন তিন জন। এদের গ্রেপ্তারসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় শুক্রবার রাতে দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। গ্রেপ্তার শ্রমিকদের ছাড়া না হলে সোমবার থেকে আবারও ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
যাদের নামে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তারা কেউই গ্রেপ্তার হননি।
রোববার রাতে রুপাতলী বাস মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চরমোনাই পীরের দরবারে মাহফিল উপলক্ষে সোমবার থেকে পরবর্তী তিন দিন সড়ক অবরোধ ও বাস ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ বেলাল রিজভী
ই-মেইলঃ news.dailybibartan@gmail.com
ফোনঃ +8801611572441