নারী নির্যাতন জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে : মহিলা পরিষদ
logo
ঢাকা, রবিবার, ১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারী নির্যাতন জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে : মহিলা পরিষদ

বিবর্তন ডেস্ক
মার্চ ১১, ২০২৫ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বর্তমানে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। তারা মনে করে, এটি এখন জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। 

এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পরিষদের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় পরিষদের সদস্যরা এ কথা বলেন।

‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ বিষয়ে নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, বর্তমানে নারী ও কন্যা নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে বিশেষ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। এ ছাড়া নারীর প্রতি যা হচ্ছে, তা কেবল নারীর ইস্যু নয়। এটি একটি সামাজিক সমস্যা, যা দূর করতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার এই পরিস্থিতি এ সময়ে হঠাৎ করে বেশি খারাপ হলো। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে রাষ্ট্রকে দায়বদ্ধ করতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয় সব সময়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি সব সময়ই গুরুত্বহীন থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে খুব দ্রুতই পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে নারীরা নিরাপদে হাঁটতে পারেন।

লেখক ও গবেষক মফিদুল হক বলেন, নারীর প্রতি নৃশংসতা বাড়ছে। ধর্মের নামে ধর্মের অপব্যবহার হচ্ছে। এসব বিষয়ে আইনের বাধাগুলোও চিহ্নিত করতে হবে।

অন্যদিকে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় কী কারণে সাজা হচ্ছে না, মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণ কী—এসব চিহ্নিত করে দূর করতে হবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম এ সবুর।

তথ্যপ্রযুক্তি–বিশেষজ্ঞ মাহবুব জামান বলেন, নারী নির্যাতনের বর্তমান পরিস্থিতি নারী ও কন্যা নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক নৈরাজ্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত বলেন, আইনের প্রয়োগ না হলে, আইন পরিবর্তন করে বেশি কিছু করা যায় না।

সভায় বলা হয়, গত বছর (২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) ৫১৬ জন নারী ও কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের দুই মাসেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ৯৭ জন ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন। নারী ও কন্যা নির্যাতন এখন জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মাসুদা রেহানা বেগম, মনোরোগবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহিদা চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন আরসাদ চৌধুরী, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক, এএলআরডির সানজিদা খানসহ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক বিবর্তন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।