হাসপাতালে নার্সের বিরুদ্ধে ঔষধ চুরির অভিযোগ, ছবি তোলায় সাংবাদিককে হুমকি
logo
ঢাকা, বুধবার, ১৫ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে নার্সের বিরুদ্ধে ঔষধ চুরির অভিযোগ, ছবি তোলায় সাংবাদিককে হুমকি

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ ৭:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সের বিরুদ্ধে স্টোর থেকে ঔষধ চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঔষধ নেওয়ার ছবি তোলায় আমতলীর স্থানীয় এক সংবাদকর্মী এইচ এম রাসেলের (দৈনিক জাগরণের প্রতিনিধি) বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছে ওই নার্স।

ওই সংবাদকর্মী এইচ এম রাসেল সময়ের আলোকে বলেন শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে তিনি ঔষধ চুরির গোপন সংবাদ পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। এ সময় তিনি বিথী আক্তার নামে একজন নার্স এর ঔষধ নিয়ে যাওয়ার ছবি তোলার তুলতে গেলে হয় নার্স তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর অনার্স দ্রুত ওখান থেকে দৌড়ে হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করেন। ওই সংবাদ কর্মীও তার পিছনে পিছনে নার্সদের অফিস কক্ষে চলে যান। সেখানে ওই নার্স বিথী আক্তার কে ঔষধের কথা জানতে চাইলে তিনি এক পর্যায়ে ঔষধ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনটি ভিডিও ক্লিপে অভিযুক্ত ওই নার্সকে প্রথমে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে এবং সাংবাদিকের পা ধরতে চেয়েছেন।

রোববার সকালে ওই সংবাদকর্মী এইচ এম রাসেলকে আমতলী থানার ওসি’র রেফারেন্স দিয়ে হাসপাতালে ডেকে নেয়। এরপর সেখানে নিয়ে তাকে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল করা হয়। এসময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুমন খন্দকার, নার্সরা সহ অন্যান্য স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালে ঢুকে কেন সাংবাদিক ছবি তুলেছে এর কৈফিয়ত চায় তারা একপর্যায়ে সংবাদকর্মীকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে সহকর্মী সংবাদ কর্মীদের সহযোগিতায় রাসেল সেখান থেকে চলে আসে।

এ ব্যাপারে বিথি আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিনিয়র স্টাফ নার্স জান্নাতুল ফেরদৌস সময়ের আলোকে বলেন, তিনি কোনো সাংবাদিকদের সঙ্গে মুঠোফোনে এব্যাপারে কথা বলতে রাজি নন। তবে দেখা হলে কথা বলবেন।

এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মুনয়েম সাদ সময়ের আলোকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের কোন স্টাফকে ঔষধ নিতে হলে প্রথমে ইনভেন্টরিতে তালিকাভুক্ত করতে হয়। এরপর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইনভেন্টরিতে স্বাক্ষর করার পর স্টোর কীপারের নিকট থেকে ঔষধ নিতে হয়। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

কিন্তু হাসপাতালের ইনভেন্টরিতে বিথি আক্তারের নামের অনুকূলে ঔষধ গ্রহণের এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুমন খন্দকারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে প্রতিদিন অল্প অল্প করে হাসপাতাল থেকে ঔষধ সরানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

দৈনিক বিবর্তন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।