স্বপ্ন দোষ কী?
logo
ঢাকা, বুধবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

স্বপ্ন দোষ কী?

স্বাস্থ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৪ ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্বপ্ন দোষ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। একে নৈশকালীন নির্গমন, ভেজাস্বপ্ন, নিদ্রারতি, যৌন স্বপ্ন, সিক্ত স্বপ্ন, ঘুমন্ত রাগমোচন বা নৈশপতন নামেও অভিহিত করা হয়। ছেলে বা মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর স্বপ্নদোষের অভিজ্ঞতা লাভ করে। সাধারণত এটি বয়ঃসন্ধিকালে বা উঠতি বয়সে সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে। তবে কারো ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকালের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও স্বপ্নদোষ হতে পারে।

স্বপ্নের সঙ্গে দোষ শব্দটি যুক্ত থাকলেও মূলত এটি দোষ নয় বরং স্বাভাবিক ঘটনা। তাই এতে গুনাহ নেই। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, তিন ধরণের লোকের ওপর থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে—(১) নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয়। (২) অসুস্থ (পাগল) ব্যক্তি, যতক্ষণ না আরোগ্য লাভ করে এবং (৩) অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক, যতক্ষণ না বালেগ হয়। (আবু দাউদ: ৪৩৯৮, ইবনে মাজাহ: ২০৪১)

সাধারণত ছেলেদের নামাজ ফরজ হয় প্রথম স্বপ্নদোষ হওয়ার পর থেকে। যদি ১৫ বছর পুরো হওয়ার পরও উক্ত আলামত দেখা না যায় তবে চান্দ্রবছর হিসেবে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে ছেলে-মেয়ে উভয়ে বালেগ তথা প্রাপ্ত বয়স্ক বলে গণ্য হবে। (আলবাহরুর রায়েক: ৮/৮৪-৮৫; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া: ২/৪৫৪, ১৬/২৮০; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৭৬, ৬/১৫৩; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১২১)

যেসব কারণে মানুষের শরীর অপবিত্র হয় তার একটি স্বপ্ন দোষ। এ থেকে পবিত্র হওয়া জরুরি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৬)

তবে স্বপ্নদোষের পর বিনা ওজরে অপবিত্র থাকা গুনাহ। তাই দ্রুত গোসল করে পবিত্র হওয়া জরুরি। এমনকি ‘অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়াও মারাত্মক গোনাহের কাজ। এক্ষেত্রে তীব্র লজ্জা কিংবা গোসলের পরিবেশ নাই মনে করা শরিয়তসম্মত ওজর নয়।’ (বাদায়েউস সানায়ে: ১/১৫১)

পবিত্র হবেন যেভাবে

পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র হওয়ার নিয়ত করতে হবে। মানে স্ত্রী-সঙ্গম, স্বপ্নদোষ, ঋতুগ্রাব ও প্রসব ইত্যাদির কারণে যে নাপাকি এসেছে, সেটা দূর করার নিয়ত করবেন। অর্থাৎ, মনে মনে এই চিন্তা করবেন যে — নাপাকি দূর করার জন্য গোসল করছি।

এরপর লজ্জাস্থানে লেগে থাকা নাপাকি প্রথমে ধুয়ে নেবেন। তারপর দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেবেন। সাবান বা এজাতীয় কিছু দিয়ে ধুতে পারলে ভালো; না হলেও অসুবিধা নেই।

তারপর নামাজের অজুর মতো করে পূর্ণাঙ্গ অজু করবেন। এরপর পানি দিয়ে মাথা ভিজিয়ে নেবেন। তারপর প্রথমে শরীরের ডান অংশে এবং পরে বাম অংশে পানি ঢালবেন। তারপর সারা দেহে পানি ঢালবেন।

দৈনিক বিবর্তন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।